ফেনী শহরজুড়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এখন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। রোগ নির্ণয়ের আগেই বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষার নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাদের। অভিযোগ উঠেছে—বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে যোগসাজশে অনেক চিকিৎসক একজন রোগীকে ভালোভাবে না দেখে, সঠিকভাবে তার সমস্যার কথা না শুনে অপ্রয়োজনীয় টেস্টের নির্দেশ দিচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য পরিণত হচ্ছে এক দুঃস্বপ্নে। এতে করে একজন ডাক্তার সেই ক্লিনিক থেকে বিপুল পরিমানের অর্থ কমিশন পাচ্ছে,আর নিঃস্ব ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ ও অসহায় রোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,
ফেনী শহরের অনেক চিকিৎসক রোগীর কথা না শুনে বা শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ
না করেই প্রথমেই একাধিক পরীক্ষার তালিকা ধরিয়ে দেন। পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া তারা যেন
রোগ সম্পর্কে কিছু বলতে অনিচ্ছুক। একেকটি ভিজিটে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ
করতে হয় রোগীদের, অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডাক্তাররা এক থেকে দুই মিনিটের বেশি সময় রোগীর
সঙ্গে ব্যয় করেন না। এছাড়া, অনেক ক্লিনিকে দেখা যাচ্ছে—রোগীর রক্তচাপ ও অন্যান্য মৌলিক
পরীক্ষা ডাক্তার নিজে না করে অদক্ষ কম্পাউন্ডার বা হেল্পার দিয়ে করানো হচ্ছে। এরপর
সেই তথ্য প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করছেন চিকিৎসক। এতে রোগীরা চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন
তুলেছেন। আবার ঢাকা থেকে আসা কিছু ডাক্তার এক দিনে ১৫০-২০০ জনের বেশি রোগি দেখে থাকেন।এতে
সাধারন মানুষ সঠিক ও মানসম্মত চিকিৎসা থেকে
বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সাধারণ মানুষ মনে করেন।
ফেনীর সাধারণ মানুষ বলছেন,
তারা এখন চিকিৎসার নামে একপ্রকার ‘অর্থনৈতিক শোষণ’-এর শিকার। পরীক্ষার খরচ, ওষুধের
দাম এবং বারবার ডাক্তার পরিবর্তনের ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ