HEADER ADD

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর...

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দীর্ঘদিনের আলোচনার পর বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের প্রতিনিধিরা একই স্থানে উপস্থিত না থেকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে এ সমঝোতা সম্পন্ন করেন।

'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' শিরোনামে প্রকাশিত এই নথিতে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত শান্তি ও সহযোগিতা চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এই সময়ের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। সমঝোতা স্মারকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। একই সঙ্গে ইরান প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনীয় মাইন অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে। পাশাপাশি ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির ওপর থাকা কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং, পরিবহন ও বিমা কার্যক্রমেও ছাড় দেওয়া হবে।অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি সম্ভাব্য পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে বলে সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ রয়েছে। এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনা হবে।

পারমাণবিক ইস্যুতেও উভয় দেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। ইরান পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের পথে যাবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে আরও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকবে। এ সময় ইরান তার বিদ্যমান পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা অপরিবর্তিত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে না। এ ছাড়া দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং ভবিষ্যতে বিরোধের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছে। চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি যৌথ নির্বাহী ব্যবস্থা গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত চুক্তিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও নথিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সমঝোতা স্মারকটি প্রকাশের আগে এটি গোপন রাখার কারণে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নথিটি প্রকাশ করা হয়, যাতে চুক্তির মূল বিষয়গুলো জনসমক্ষে তুলে ধরা যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ