জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ এ শিবির সমর্থিত প্রার্থীদের বড় সাফল্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা। বেশিরভাগ হলে তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হয়েছেন। যদিও কোনো পূর্ণাঙ্গ প্যানেল না দিয়েও প্রার্থীরা সফল হয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদল প্যানেল গঠন করলেও নানা কারণে প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হল সংসদের ফলাফল ঘোষণা করে জাকসু নির্বাচন কমিশন। এতে ভিপি, জিএস ও এজিএস সহ বিভিন্ন পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।কোনো পদেই জয় পাননি ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা।
তবে ভিপি পদে তিন হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন
‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক
কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ জিতু। জিএস পদে তিন হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত
হয়েছেন শিবিরের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম। এ ছাড়া দুটি করে পদে বাংলাদেশ
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র
প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।
এবারের
জাকসু নির্বাচনে ১১ হাজার ৭৪৩ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৩৪ জন
শিক্ষার্থী নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন। কেন্দ্রীয় ও হল সংসদগুলোতে ৩৪০ পদের
বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৬২০ প্রার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলের ৩১৫টি
পদের মধ্যে ১৩১টিতে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এবং ৬৮টি পদ
শূন্য থাকছে। কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫টি পদের বিপরীতে ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করেন, যার মধ্যে ১৩২ জন ছাত্র ও ৪৫ জন ছাত্রী। এদের মধ্যে বিজয়ী হলেন-
আল
বেরুনী হলে: ভিপি হয়েছেন রিফাত আহমেদ শাকিল (১০৬ ভোট), জিএস হয়েছেন মুনতাসির বিল্লাহ
খান (৮২ ভোট), আর এজিএস পদে সাদমান হাসান খান (১১২ ভোট) জয়ী হয়েছেন।
নওয়াব
ফয়জুন্নেসা হলে: ভিপি হয়েছেন বুবলী আহমেদ, জিএস হয়েছেন সুমাইয়া খানম—দুজনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
নির্বাচিত।
শহীদ
জাহানারা ইমাম হলে: ভিপি হয়েছেন মাহমুদা খাতুন (১৫৬ ভোট), জিএস হয়েছেন রিজওয়ানা বুশরা
(১৬৬ ভোট)। এজিএস পদে সমান ভোট পাওয়ায় সাদিয়া খাতুন ও লামিয়া জান্নাত ছয় মাস করে দায়িত্ব
পালন করবেন।
১০নং
ছাত্র হলে: ভিপি হয়েছেন আসিফ মিয়া (১৭১ ভোট), জিএস হয়েছেন মেহেদী হাসান (১৯৭ ভোট),
এজিএস হয়েছেন নাদিম মাহমুদ (২০১ ভোট)।
১৫নং
ছাত্রী হলে: ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন শারমীন খাতুন (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়)। জিএস হয়েছেন
মেহনাজ মোহনা (১২০ ভোট) এবং এজিএস হয়েছেন রেজওয়ান বিনতে রহমত (১৬৭ ভোট)।
শহীদ
সালাম-বরকত হলে: ভিপি হয়েছেন মারুফ হোসেন (১১১ ভোট), জিএস মাসুদ রানা (১১৭ ভোট), এজিএস
আবরার আজিম ভুঁইয়া (১১৬ ভোট)।
মওলানা
ভাসানী হলে: ভিপি হয়েছেন আবদুল হাই স্বপন (১৬৯ ভোট), জিএস হৃদয় পোদ্দার (১৯৪ ভোট),
এজিএস রাকিব হাসান (১৯৮ ভোট)।
মীর
মশাররফ হোসেন হলে: ভিপি হয়েছেন খালেদ জুবায়ের শাবাব (১৫৩ ভোট), জিএস শাহরিয়ার নাজিম
রিয়াদ (১৯২ ভোট), এজিএস আরাফাত হোসেন (১৮১ ভোট)।
বীর
প্রতীক তারামন বিবি হলে: ভিপি হয়েছেন ফারজানা
আক্তার ঊর্মি (২১৫ ভোট), জিএস হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা কর্মকার প্রিয়া (২৭৬ ভোট), এজিএস হয়েছেন
নুরসাত ই লাবণ্য (১৪৪ ভোট)।
কাজী
নজরুল ইসলাম হলে: ভিপি হয়েছেন রাকিবুল ইসলাম (৩৮৭ ভোট), জিএস আলী আহমেদ (১৮৫ ভোট),
এজিএস সামিন ইয়াসির লাবিব (৩০৪ ভোট)।
২১নং
ছাত্র হলে:ভিপি হয়েছেন এসএম শিহাব (২০০ ভোট), জিএস অলি উল্লাহ (২৫৩ ভোট), এজিএস তুষার
আহম্মেদ শাওন (১৮২ ভোট)।

0 মন্তব্যসমূহ