HEADER ADD

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সময় এখনই

কেন স্টারমার সিদ্ধান্ত নিলেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সময় এখনই 

 ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার। দীর্ঘদিন ধরে লেবার পার্টির ইশতেহারে প্রতিশ্রুত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি এ বার সরকারিভাবে সামনে এনেছেন তিনি।গাজার ক্রমাবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ চাপ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জুলাই মাসে স্টারমার ঘোষণা দেন—যদি ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয় এবং টেকসই শান্তি ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথে না এগোয়, তবে সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।


 ডাউনিং স্ট্রিট জানত, বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের অবস্থান বিবেচনায় এসব শর্ত পূরণের সম্ভাবনা প্রায় নেই। তবুও সরকারের ভেতরের অনেকেই মনে করেছিলেন, এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বার্তা দেবে। ২০১৪ সালে তৎকালীন লেবার নেতা এড মিলিব্যান্ড কমন্সে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পক্ষে একটি প্রস্তাব সমর্থন করেছিলেন। এখন সরকারে আসার পর সেই প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়িত হলো। লেবার দলের অর্ধেকেরও বেশি সাংসদ সরকারকে দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য চিঠি দেন। একই সঙ্গে বেশ কিছু মন্ত্রিপরিষদ সদস্য তাদের আসনে ভোট হারানোর আশঙ্কায় এ দাবিকে সমর্থন করেন। বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় শহরগুলোতে স্থানীয় জনগণের চাপ ছিল প্রবল। ফ্রান্স প্রথম জি-৭ দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই যুক্তরাজ্যের অবস্থান আসে। পরে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাও একই পথে হাঁটে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তে বিরোধ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সফরে আসা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিপক্ষে। এই পদক্ষেপকে অনেক সমালোচক কেবল প্রতীকী বলে অভিহিত করেছেন। কনজারভেটিভরা একে “রাজনৈতিক ভঙ্গিমা” বলে দাবি করেছে, যা জিম্মি মুক্ত করবে না বা যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করবে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এটি হামাসের সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করার সমান। ব্রিটেনের প্রধান রাব্বি স্যার এফ্রাইম মিরভিসও সরকারকে সিদ্ধান্ত স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।তবে ব্রিটিশ সরকার বলছে, এটি কেবল প্রতীকী নয়। আরব দেশগুলোর সাম্প্রতিক বিবৃতিতে হামাসকে নিরস্ত্র ও গাজার শাসন থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান—এর প্রমাণ যে স্বীকৃতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লেবার এমপিদের একাংশ স্বীকার করেছেন, গাজার ইস্যুতে দলটির অবস্থান কিছু ভোটারকে গ্রিন পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত অনেক দেরিতে এসেছে, তবে দেরিতে হলেও এটি সঠিক পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সার্বিকভাবে, স্টারমারের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন অধ্যায় খুলেছে। তবে বাস্তব মাটিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ