বিএনপির রাজনীতির পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন তারেক রহমান
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর গণমাধ্যমের সামনে এলেন বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, আগামী নির্বাচনে দলের কৌশল, আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও নেতা কর্মীদের বিচার প্রক্রিয়া, এবং বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতামত দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির এবং সিনিয়র সাংবাদিক কাদির কল্লোল। দুই পর্বে প্রচারিত এই সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব আজ
প্রকাশিত হয়েছে। এখানে বিএনপির রাজনীতি ও নেতৃত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক
রহমানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।বিবিসি বাংলা প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা অভিযোগ সবসময় শোনা যায়যারা ক্ষমতায় আসে, জবাবদিহিতার প্রশ্নে তারা পিছিয়ে যায় বা এড়িয়ে যায়।
এই বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?
তারেক রহমান: অভিযোগ তো থাকতেই পারে। আমি আগেই বলেছি, একটি বিষয়ে বিভিন্ন মানুষের ভিন্ন মত বা অভিযোগ থাকতে পারে। অভিযোগ মানেই যে তা ভিত্তিহীন, তা নয়—তবে অভিযোগ নিয়েই থেমে থাকা উচিত নয়। অভিযোগগুলো আমরা অবশ্যই বিবেচনায় রাখব। আপনি যেহেতু জানতে চেয়েছেন,
আমি বলতে চাই—আমার অভিজ্ঞতা থেকে যা দেখেছি ও শিখেছি, সেটিই আমি সামনে
তুলে ধরছি। অভিযোগ কেবল বাংলাদেশেই নয়, অন্য দেশেও থাকে। তবে আমি যদি
সুযোগ পাই, ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে প্রমাণ করতে পারব যে আমরা জবাবদিহিতার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবশ্যই এটি সঙ্গে সঙ্গে সম্ভব নয়, কারণ দেশ গঠন একটি সম্মিলিত
প্রক্রিয়া। আপনি, আমি—সবাই এই দায়িত্বের অংশ। আমাদের লক্ষ্য হবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে
দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা।
বিবিসি বাংলা: আপনি দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাসনে থেকে দল পরিচালনা করেছেন।
নেতৃত্বের চিন্তাধারায় এতে কী পরিবর্তন এসেছে?
তারেক রহমান: আমি প্রবাসে ১৭ বছর ধরে আছি। এর মধ্যে সময়ের পার্থক্য, দূরত্ব এবং যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা সব মিলিয়ে এটি একটি কঠিন অভিজ্ঞতা ছিল। প্রথমেই আমি কৃতজ্ঞ আমার পরিবার—আমার স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। একইভাবে ধন্যবাদ জানাই আমার
দলের হাজারো নেতা- কর্মীকে, যারা প্রতিকূলতার মধ্যেও পাশে ছিলেন, দলকে
সংগঠিত রেখেছেন, রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।এখানে (যুক্তরাজ্যে)
থেকে আমি অনেক কিছু দেখেছি ও শিখেছি। নাগরিক দায়িত্ববোধ, শাসনব্যবস্থা ও
জনকল্যাণের নীতি— এই বিষয়গুলো আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি যদি
ইনশাআল্লাহ সুযোগ পাই, তাহলে দেশের মানুষের কল্যাণে এবং বাংলাদেশের উন্নতির জন্য সেই শেখাগুলো প্রয়োগ করতে চাই।

0 মন্তব্যসমূহ