১৫০ বছর পর্যন্ত আয়ু বাড়াতে পারবেন কি পুতিন?
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে ফের তুমুল আলোচনা। সম্প্রতি চীনের রাজধানী বেজিঙে আয়োজিত ‘বিজয় দিবস’-এর কুচকাওয়াজে অংশ নেন তিনি। সেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে উঠে আসে দীর্ঘায়ুর প্রসঙ্গ। শি মজার ছলে পুতিনকে বলেন, “৭০ বছর বয়সেও আপনি যেন শিশুর মতো তরুণ।” জবাবে পুতিন জানান, আধুনিক চিকিৎসা ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের উন্নতির কারণে এখন মানুষের আয়ু ১৫০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তাঁর তথাকথিত ‘অমরত্ব’ নিয়ে জল্পনা কল্পনা।
রাশিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, পুতিন গত বছর থেকেই বিশেষ এক বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের নির্দেশ দিয়েছেন। মস্কোয় শুরু হয়েছে ‘নিউ হেল্থ প্রিজারভেশন টেকনোলজি’ যেখানে স্নায়ু ও জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বার্ধক্য ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। এ প্রকল্পে পুতিনের ঘনিষ্ঠ বিজ্ঞানী মিখাইল কোভালচুক এবং তাঁর কন্যা মারিয়া ভোরন্তসোভাও যুক্ত আছেন। তবে গবেষণার অগ্রগতি নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখেছে ক্রেমলিন। শুধু রাশিয়া নয়, চীনও একই পথে হাঁটছে। ২০১৬ সাল থেকে ‘অমরত্ব’ নিয়ে ওষুধ তৈরির চেষ্টা করছে বেজিঙের গবেষকরা। বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট শি নিজেও অন্তত ১০০ বছর আয়ু চান। ফলে দুই পরাশক্তির এই প্রতিযোগিতা কেবল চিকিৎসা নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিরও বড় অংশ হয়ে উঠেছে। তবে চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন না। তাঁদের মতে, অঙ্গ প্রতিস্থাপন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে, কিন্তু অমরত্ব দেয় না।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রতিস্থাপিত কিডনি সর্বোচ্চ ৫০ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে, যকৃত প্রায় ২০ বছর, হৃদ্পিণ্ড ১৫ বছর এবং ফুসফুস গড়ে ১০ বছর পর্যন্ত। একাধিক অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঝুঁকি মারাত্মক, এমনকি মৃত্যু ঘটতে পারে। আর মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের কোনও পদ্ধতি এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে শরীর হয়তো কিছুটা তরুণ রাখা সম্ভব, কিন্তু মস্তিষ্কের বার্ধক্য ঠেকানো যাবে না। বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার গড় আয়ু বাড়ছে। পুতিনও স্বীকার করেছেন— ২০৫০ সালের মধ্যে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা শিশুদের চেয়ে বেশি হবে। এতে সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতির কাঠামো আমূল বদলে যাবে। অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও জিন প্রযুক্তি চিকিৎসা বিজ্ঞানে নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে। কিন্তু তা দিয়ে মানুষকে ১৫০ বছর বা তার বেশি সময় বাঁচানো, কিংবা অমরত্ব দেওয়া— এখনও কেবল কল্পনার জগতে। পুতিনের মন্তব্য তাই যতটা আলোড়ন তুলেছে, ততটাই প্রশ্নও তৈরি করেছে— বিজ্ঞান কি সত্যিই মৃত্যুকে হার মানাতে পারবে ?


0 মন্তব্যসমূহ