দুই উপদেষ্টাকে পদত্যাগের
পরামর্শ, সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত

দুজনের কোনো বক্তব্য পাওয়া
যায়নি। তবে আসিফ মাহমুদ গত ১৪ আগস্ট সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি
পদত্যাগ করবেন। আর মাহফুজ আলম ২৮ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘দুই মাস ধরে আমি অনিশ্চয়তার
মধ্যে আছি যে আমি কখন নেমে যাই।’
ছাত্র উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠ
একটি সূত্র জানায়, তাঁরা চান উপদেষ্টা পরিষদে অন্তত একজন ছাত্র প্রতিনিধি থাকুক, কারণ
অন্যথায় তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সরকার গঠনের সময় প্রথম ছাত্র
প্রতিনিধি ছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম, যিনি পরে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)
আহ্বায়ক হন। মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান,
পরে তথ্য উপদেষ্টা হন। আসিফ মাহমুদ প্রথমে শ্রম ও যুব–ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে
ছিলেন, পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,
এই দুই উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁরা দলটির পরামর্শক হিসেবেও
ভূমিকা রাখেন। সম্প্রতি জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে উদ্ভূত সংকটের সময়ও এনসিপির সঙ্গে এক
বৈঠকে একজন ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।
তবে এনসিপির পক্ষ থেকে বলা
হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় বিভিন্ন দল থেকে নাম নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ করা হয়েছিল;
তাই কেবল ছাত্র প্রতিনিধিদের পদত্যাগের পরামর্শ গ্রহণযোগ্য নয়। বুধবার যমুনায় প্রধান
উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি নেতারা এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণার
সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক
তৈরি করেছে। বিএনপি ইতিমধ্যে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে দলীয় ঘনিষ্ঠদের অপসারণের দাবি জানিয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
বলেন, উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করছেন। অপরদিকে
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের কিছু উপদেষ্টার বিরুদ্ধে
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন।
0 মন্তব্যসমূহ