ডাকসু
নির্বাচনে নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানো নিয়ে বিতর্ক, সন্দেহের অবসান চান প্রার্থীরা
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যালট পেপার নীলক্ষেতে অরক্ষিত
অবস্থায় ছাপানো হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠার পর থেকে এ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। বিশ্ববিদ্যালয়
প্রশাসন বলছে, যেভাবে ব্যালট ছাপানো হয়েছে তা নীলক্ষেতের কোনো দোকানে সম্ভব নয়। তবে
প্রার্থীরা মনে করেন, এ বিষয়ে দ্রুত সুনির্দিষ্ট জবাব দেওয়া প্রয়োজন।
২২ সেপ্টেম্বর
ছাত্রদল-সমর্থিত প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটের একটি ছাপাখানায়
বিপুলসংখ্যক ব্যালট অরক্ষিতভাবে ছাপানো হয়েছে। একই মার্কেটের আরেক দোকানে ব্যালট কাটা
হয় বলে তাদের দাবি। টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত
উল্লেখ করা হয়। এমনকি এক ছাপাখানা মালিকও ব্যালট ছাপানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে
প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ভোট শেষ
হওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা অনিয়মের অভিযোগ তুললেও নির্বাচন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ছিল।
ডাকসুর ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয়ী হয় ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ
শিক্ষার্থী জোট’। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অরক্ষিতভাবে ব্যালট ছাপানোর বিষয়টি
সামনে আসে।
স্বতন্ত্র
শিক্ষার্থী ঐক্যের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা বলেন, “ব্যালট ছাপানো ও গণনার মতো প্রক্রিয়ায়
প্রশ্ন উঠলে প্রশাসনের পেশাদারিত্ব নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়। তাই এ বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট
জবাব দেওয়া জরুরি।” ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানও বলেন, “নির্বাচনের স্বচ্ছতা
নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা ইতিহাসে খারাপ নজির হয়ে থাকবে।”
অন্যদিকে,
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্যালট ছাপানোর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ
গোপনীয়তার মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। নীলক্ষেতের কোনো দোকানে এ কাজ হওয়ার সুযোগ নেই বলে
তারা দাবি করেছে। তবে প্রার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা
ঘোষণা দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত
জানানো হবে।
ডাকসুর
জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তবে প্রশাসনের উচিত তা স্পষ্টভাবে
জবাব দেওয়া। কিন্তু অস্পষ্ট অভিযোগ ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।”

0 মন্তব্যসমূহ