সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সংখ্যা কিছুটা কমলেও থামছে না মনোনয়ন দৌড়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ১৩৬ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকা থেকে তা কমিয়ে আনা হয়েছে ৬৬ জনে, তবে একাধিক আসনে এখনও রয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশেষ করে যেখানে হেভিওয়েট ও কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বী, সেসব আসনেই চলছে প্রধান আলোচনা।
সবচেয়ে আলোচিত সিলেট-১ আসনে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের দুই উপদেষ্টা—সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও তিনবারের সাবেক এমপি খন্দকার আব্দুল মালিকের ছেলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দলীয় সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রভাবশালী নেতা পাশা খন্দকারের ঘনিষ্ঠতা মুক্তাদিরের মনোনয়নকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
সিলেট-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠেছে। নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর আসনে তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা মনোনয়নপ্রত্যাশী। অন্যদিকে, দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও এ আসনে মনোনয়ন চান।
সিলেট-৩ আসনে রয়েছেন তিন প্রভাবশালী প্রার্থী—যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক, ব্যারিস্টার এমএ সালাম ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এদের পাশাপাশি সাবেক ছাত্রনেতা জামাল, ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান ও প্রবাসী নেতা ড. ফয়েজ উদ্দিনও সক্রিয় আছেন।
সিলেট-৪ আসনে প্রবাসী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাকিম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান সেলিম—সবাই মাঠে আছেন। এ আসনে মঙ্গলবার মনোনয়নপ্রত্যাশী শামসুজ্জামান জামানের নেতৃত্বে গোয়াইনঘাটে জনসভা হয়।
সিলেট-৫ আসনে প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর পরিবারের প্রতি স্থানীয় ভোটারদের সহানুভূতি বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। তার মেয়ে সামিরা তানজীন চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারেন। এ আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা সিদ্দিকুর রহমান পাপলু ও প্রবাসী নেতা জাকির হোসেন মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে জোট গঠন হলে এ আসন জমিয়তকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে, যেখানে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক প্রার্থী হতে পারেন।
সিলেট-৬ আসনে রয়েছেন ড. এনামুল হক চৌধুরী, আবুল কাহের শামীম, ফয়সল আহমদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সৈয়দা আদিবা হোসেন, প্রবাসী নেতা সাবিনা খান পপি ও চিত্রনায়ক হেলাল খান।
হবিগঞ্জে সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গৌছ শক্ত অবস্থানে আছেন। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে রয়েছেন কলিম উদ্দিন মিলন ও মিজানুর রহমান চৌধুরী। মৌলভীবাজারে প্রভাবশালী পরিবার সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমানও মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে।
বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, “গোটা সিলেট এখন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। প্রার্থী চূড়ান্ত হলে সকল মনোনয়নপ্রত্যাশীই ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের জন্য শিগগিরই ১৯ জন চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

0 মন্তব্যসমূহ