প্রার্থী পুনর্মূল্যায়নে বিএনপি: কয়েকটি আসনে আসছে বড় পরিবর্তন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উভয় দলেই প্রার্থী পুনর্মূল্যায়নের সূচনা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, স্থানীয় বিরোধ, ভাবমূর্তি ও এলাকা–ভিত্তিক বিভিন্ন বাস্তবতায় ঘোষিত তালিকার বেশ কিছু আসনে নতুন করে প্রার্থী বাছাইয়ের চিন্তা করছে দুই দলই। এতে চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হতে পারেন কয়েকজন নতুন মুখ।
২৩৬ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই বিএনপির বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ দেখা দেয়। বিশেষ করে ২৩টি আসনে বিক্ষোভ করেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতা–কর্মীরা। এর প্রেক্ষিতে দলটির হাইকমান্ড মনোনয়নবঞ্চিতদের ঢাকায় ডেকে এনে দফায় দফায় কথা বলছে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে এক ডজনের বেশি আসনের বঞ্চিত প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। ফোনে যোগাযোগ করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।
প্রার্থীদের মধ্যে বিরোধ না রাখতে সবার মতামত নিয়ে যাচাই–বাছাইয়ের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের সার্বিক বাস্তবতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দলীয় নেতাদের ভাষ্য—যেখানে প্রয়োজন সেখানে প্রার্থী পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিএনপির কয়েকটি আসনে বয়স্ক প্রার্থী দেয়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ—বয়স ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা প্রচারণায় পিছিয়ে পড়ছেন। তরুণ ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্কও দুর্বল। এ কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, কুষ্টিয়া-৪, চট্টগ্রাম-১৩ এবং মুন্সীগঞ্জ-২ সহ কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের আবেদন যাচ্ছে হাইকমান্ডের কাছে। তরুণ ও সক্রিয় নেতাদের অগ্রাধিকার দিতে স্থানীয় নেতারা জোর দাবি জানাচ্ছেন।
কুমিল্লা-৯ আসনে মনোনয়ন নিয়ে দুই প্রার্থীর দ্বন্দ্ব নিরসনে হস্তক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকের পর উভয় পক্ষ ঐক্যের ঘোষণা দেয়। একইভাবে সাতক্ষীরা-৩, ময়মনসিংহ-৬, নাটোর-১, জয়পুরহাট, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি আসনের মনোনয়নবঞ্চিতদের সঙ্গেও কথা বলেছেন মহাসচিব।
প্রায় এক বছর আগে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নামলেও চূড়ান্ত তালিকায় বড় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। শরিক ৭ দলকে আসন ছাড়, জুলাই আন্দোলনের নেতাদের অগ্রাধিকার, বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে তালিকা নতুনভাবে সাজাচ্ছে দলটি।
সূত্র জানায়, অন্তত ৪ জন সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ৩ ভিপি ও ২ জিএস, কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা এবং জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তাদের মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। জামায়াতের লক্ষ্য—বড় পরিসরে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে ‘ইসলামপন্থিদের এক ছাতার নিচে’ আনা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় থাকা মিজানুর রহমান আজহারিকে ঢাকা-৫ আসনে মনোনয়ন দিতে পারে দলটি—এ তথ্য জামায়াত সরাসরি অস্বীকার না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছে যে জনপ্রিয় আলেমদের সংসদে আনতে দলের আগ্রহ রয়েছে। ইতোমধ্যে কুষ্টিয়ার একটি আসন থেকে ইসলামিক বক্তা আমির হামজার মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর অমুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছেও জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে বলে দাবি দলের। এজন্য অন্তত একজন উপজাতিসহ কয়েকজন অমুসলিম প্রার্থী মনোনয়নের চিন্তা রয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় নারী প্রার্থী না থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় উচ্চশিক্ষিত ও পরিচিত কয়েকজন নারীও যুক্ত হতে পারেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলের শরিকদের জন্য কতটি আসন ছাড়বে—এ নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট ঘোষণা না এলেও দলটি বিজয়ী সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দিতে চায়। জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সংসদে দেখতে চায় জামায়াত।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত উভয়ই প্রার্থী তালিকা নিয়ে সতর্ক ও কৌশলী অবস্থানে রয়েছে। বিরোধ নিরসন, তরুণ প্রজন্মের বিষয়টি বিবেচনা, জনপ্রিয় মুখকে অগ্রাধিকার ও শরিকদের সমন্বয়—সব মিলিয়ে দু’দলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় আসতে পারে বড় পরিবর্তন।
নিজস্ব প্রতিবেদক:

0 মন্তব্যসমূহ